মালয়েশিয়ায় কৃষক-বিজ্ঞানী সম্মেলনে স্বশিক্ষিত নূর মোহাম্মদ
আগামী ৬ থেকে ৮ নভেম্বর মালয়েশিয়ার পেনাং শহরে বসছে কৃষক-বিজ্ঞানী সম্মেলন। ধান নিয়ে নতুন নতুন উদ্ভাবনের কৃতিত্ব দেখিয়ে এবার বাংলাদেশ থেকে এই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন স্বশিক্ষিত কৃষিবিজ্ঞানী নূর মোহাম্মদ। গবেষণা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজিনাস নলেজ (বারসিক) এর সহযোগিতায় সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে মালয়েশিয়া রওনা হন তিনি।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে মঙ্গলবার সেখানে পৌঁছেছেন রাজশাহীর তানোর উপজেলার গোল্লাপাড়া গ্রামের এই কৃষক।
প্রসঙ্গত, প্রতিবছরই খরার কবলে পড়ে ধানকে বিনষ্টের হাত থেকে রক্ষায় সবচেয়ে স্বল্প জীবনকালের খরাসহিষ্ণু বোরো ধান উদ্ভাবন করে আলোচনায় আসেন নূর মোহাম্মদ। এই ধানের নাম দিয়েছেন এনএমকেপি-১০৩। সুগন্ধি এ ধান আমন মৌসুমেও হয়।
কৃষি উৎপাদনে সাফল্যের জন্য নূর মোহাম্মদ ২০০৫ সালে রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন। ২০১৮ সালে সেরা কৃষি উদ্ভাবন ক্যাটাগরিতে তীর-প্রথম আলো কৃষি পুরস্কার পেয়েছেন এই ‘বিজ্ঞানী’।
নূর মোহাম্মদের মতে, তার পাঁচটি জাত স্বীকৃতি পাওয়ার মতো। এগুলো হচ্ছে এনএমকেপি-১ থেকে এনএমকেপি-৫ পর্যন্ত। তিনি দেশের প্রচলিত ধানের জাতকে উজ্জীবিত করে এটির জীবনকাল কমিয়ে এনেছেন। কোনোটির ফলন বাড়িয়েছেন। খরাসহিষ্ণু জাতের উদ্ভাবন করেছেন। এ ছাড়া আমন মৌসুমের জন্যও তিনি খরাসহিষ্ণু ও স্বল্প জীবনকালের আরও দুই জাতের ধান উদ্ভাবন করেছেন। এর একটির নাম দিয়েছেন এনএমকেপি-৫ ও অন্যটির নাম দিয়েছেন এনএমকেপি-১০১।
তবে তিনি জানান, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটও এই জাতের আমন উদ্ভাবন করেছে, কিন্তু তারটা সম্পূর্ণ আলাদা বৈশিষ্ট্যের। তিনি বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য উপযোগী করে এই ধান উদ্ভাবন করেছেন। এই ধান ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত বৃষ্টি না পেলেও খরা মোকাবিলা করে ভালো ফলন দিতে সক্ষম। এর ফলন বিঘায় ২০ থেকে ২১ মণ।







